বালিকাটি
বালিকাটি রোদ্দুর ভালোবাসতো
বালিকাটি সবেমাত্র ফুলের পাশে একা হতে শিখেছিল
বালিকাটি পৃথিবী পড়ছে, দেখছে বিভোর পুষ্পের ঘর, ভ্রমরের ব্যস্ত ডানার ওড়াউড়ি
একটু আধটু তন্ময়তা, একটু আধটু গুনগুন
সবেমাত্র, বালিকাটি!---
বালিকাটি জানে মায়ের শাসন, জানে বাবার আদর
দৃপ্ত বেণীতে তার আভাস, ছোট্ট এইটুকু ভূবন
যদি আরও একটু পেতো স্বাধীনতা
পুকুরের পাড়, হিজলের তলা...
যদি আরও একটু বেশি কাটতো বেলা!
বালিকাটি তখনো মানুষ চিনেনি
সে জানে না, এ পৃথিবীতে নেকড়ে নয়, ভালুক, হায়েনা, সরীসৃপ...
এরা কেউ নয়
এ পৃথিবীতে মানুষই সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী!
বালিকাটি শুধু আরও একটু স্বাধীনতা চেয়েছিল
সে প্রকৃতির মতো করে একটু একটু করে নিজেকে মেলে ধরতে চেয়েছিল!
নরপশুরা শিকার বুঝে, বর্বরতা বুঝে
বালিকা বুঝে না, প্রকৃতি বুঝে না!
পরাধীন এই সভ্যতায়
একটি উজ্জ্বল ভোর হ'তে চেয়েছিল বালিকা
হঠাৎ এমন আকাশ ছুঁয়ে-
এই নিষ্ঠরতা, অন্তহীন এই তিমির তো সে চায়নি !
এক বিকেলের ঋণ
এক বৃদ্ধ তার সাদা-কালো কুকুরটিকে নিয়ে প্রতিদিন এখানে
এক মা তার হাঁটাহাঁটি পা শিশুটিকে স্ট্রলার থেকে নামিয়ে দেন জমিনের পর
ওখানে স্বপ্ন লেখা হয় পুরনো পাতায়
এ বছর তরুণ কাঠবিড়ালিদের দৌরাত্ম্য খুব বেড়েছে!
একটি বেঞ্চ, আসন শূন্য, কথা বলে তবু
একটি বিকেল, মামুলি এই জীবনে
ধার দিয়ে যায় নরম পালকের মতো কিছু উষ্ণতা
আমার ঋণ বাড়ে!
বহুদিন হয় আমি আর কারোর বুকেই নিবন্ধিত নই
এই ঘাস, লতাপাতা, বৃক্ষ, শেষ বিকেলের মখমলি এই রোদ, এইতো, এরাই সব
এরাই শুধু আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে বলে যায়, কৃতজ্ঞ থেকো তবুও
আমি ওদের সাথে আর কোনো কথা বাড়াই না!
ঢাকনা খোলা দানীটায় এখন আর কোনো সুগন্ধি নেই, কিছু ধোঁয়া তবু উড়ে যায় হাওয়ায়
আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় আরও কিছু ঋণের কথা, অপরিশোধিত, তোর কাছে!
যতটা সহজে আমরা পরস্পরের হাত ছেড়ে দিয়ে বাঁচি, স্মৃতিগুলোকে ঝেড়ে ফেলার জন্যে তেমন সহজ কোনো পথ আমাদের জানা নেই কেন!?
পথের পাশে পড়ে থেকে ঝরা পাতারাও হয়তো বিগত বসন্তের কথা ভাবে
ভাবে কোনো একসময়ে জীবন কেমন দোল খেতো দখিনা নহবতে!
নাকি এ-ও শুধু আমারই মনের ভুল!?