চে’র স্বপ্নগুলো আজ দিগন্তের বলি রেখায় ধূসর
আমার জন্মভূমি এবং এই পৃথিবীর পন্ডিতেরা সব এখন
তোষামুদিরই বিশেষজ্ঞ একেকজন
আমি তাই কোন সভা সমাবেশে যেতে চাই না
এধরণের খবরের পাতাগুলোকে সযত্নে এড়িয়ে যাই
বা ঘৃণা করি
তোমাকে ভালোবাসি অথচ ভালোবাসতে ভয় পাই
একান্তে ফুঁটে থাকা গোলাপের কষ্ট তাকে ঘিরে থাকে চারপাশ
আমি তার গন্ধকে বুকে টেনে নিতে ভয় পাই
অপ্সরা নগরীর মাস্তুলে আমি শুধু বেদনার শিখাকেই পুড়তে দেখি
প্রতিটা আর্তনাদের সাথে আমি
একেকটি স্বপ্নিল আত্মাকে মরে যেতে দেখি।
আমি দেখি মানুষ কোটিপতি হওয়ার জটিল সূত্রগুলো
খুব সহজে বুঝে ফেলে
মঙ্গল গ্রহ, চাঁদে যাওয়ার কলাকৌশল আত্মস্থ করে
জোট আর সংস্থা করে
ঔপনিবেশিক শোষণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়
ধর্ম বুঝে নেয় যে যার মতন করে সুবিধেমত
অথচ..
ছোট্ট শব্দ ‘মানবতা’ তাদের কাছে খুব দুর্বোধ্য মনে হয়
‘মানুষ’ নাম নিয়েও তারা তা বুঝতে পারেনা..?
কিছু শোরগোল শুনতে পাই
মহাকালের অন্ধকার জরায়ুতে
কিছু শোরগোল শুনতে পাই
ক্রমশঃ যেন উত্তপ্ত হয় একটি শীতল জনস্রোত
কিছু অস্পষ্ট কন্ঠ..
হয়তো অলীক কল্পনা আমার
কালো সভ্যতার এপার থেকে
শুনতে পাওয়া ভ্রান্ত হৃদয়ের ডাক
কিন্তু আমি শুনতে পাই।
বিভিন্ন মায়ের জঠরে জন্ম ওদের
বিভিন্ন সময়ের জঠরে জন্ম ওদের
কিন্তু এখন ওরা এক সবাই
এখনো শোকার্ত এই পৃথিবীর মুখমন্ডল দেখে
ওরা জেগে উঠে শতবছরের বিস্তৃত সমুদ্রের ওপারে
ক্লান্ত নয়, তবে খুব বেশী আহত মনে হয় ওদের
পূরণ ছেঁড়া কুয়াশার ঝাপটা এসে পড়ে ওদের শরীরে
ওরা এগোয়..
কারো হাতে ওদের লোরকার কলম
কারো চোখে ক্ষুদিরামের স্বপ্ন
কারো হাতে উঁচিয়ে সক্রেটিসের নৈতিকতার দৃঢ় নিশান
আরেকজন..
ওর সৎ ও শক্ত পেশীর টানে
বিদ্রোহী ষাঁড়ের মত ছুটতে থাকা মেল ট্রেনকে
থামিয়ে দিয়েছিলো একদিন
কেঁপে ওঠা সামন্ত প্রভুদের মাটিতে
কালো ধোঁয়ার আকাশে ছড়িয়ে দিয়েছিলো
নূতন পৃথিবীর বার্তা
অন্যজন একটু অস্পষ্ট তার ভাষা
হয়তো বলছে ওর আঘাতেই বেড় হয়ে এসেছিলো
প্রস্তর প্রাণের সুপ্ত আগুন
সবাই ওরা এখন জানে মানবিক বিপ্লব
কোন এক প্রজন্মের বিষয় নয়
তাই একত্রিত ওরা সবাই
ওরা আসে নূতন প্রজন্মের জন্যে সাহস আর ভালোবাসার উপহার নিয়ে।
আমি বিদ্রোহী নই
রক্তাক্ত জনপদ আমার পছন্দ নয়
মন খোলা বাতাসের মত আমি
ভালোবাসার নদীতে উড়তে চাই
আগন্তুক তোমার যৌবনের ঠিকানায়
হাঁটু গেঁড়ে ভিখিরি হতে চাই
কিন্তু আমার চারপাশ ঘিরে শুধু মৃত্যুকূপ
পথের দুপাশে প্রতিদিন আমি
ফুল শিশুদের খুন হওয়া স্বপ্নকে পড়ে থাকতে দেখি
যা আমাকে একটু একটু করে সাহসী করে তোলে
ভালোবাসা আমাকে সাহসী করে তোলে
আমি ড্রামের শব্দ শুনতে পাই
আমি দেখি তরুণ সৈনিক তার
মারণাস্ত্রের শিক্ষাকে ভুলে গিয়ে
শান্তির পতাকাকে স্যালুট করে
বৃক্ষের সবুজ পাতায় দুলতে থাকা
ক্রমবর্ধমান ড্রামের ধ্বনিকে স্যালুট করে
আমার হাত ধরো
পথের পাশে পড়ে থাকা শিশুটির হাত ধরো..
দেখো পূরণ লিপির সংকলন নিয়ে
কেঁপে কেঁপে উঠছে সব প্রাচীন ইমারত
এ ভালোবাসা নিঃসঙ্কোচ, এ ভালোবাসা নির্ভীক
এ ভালোবাসা রক্তের বিনিময়ে রক্ত দাগ মুছে ফেলার
এ ভালোবাসা কেতাবী ঢং-এ খুনী সভ্যতার বিপরীতে
মানবতার জয়
পৃথিবীতে জন্ম পাপ বলে কিছু নেই
দুরারোগ্য ব্যধির মত এই জীবন
সেতো মানুষের ই সৃষ্টি
এখনই সময় তাকে ভেঙে ফেলার
হাত ধরো প্রিয়তমা।।
ফরিদ তালুকদার । টরেন্টো
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
একটা আর্তনাদ একটি স্বপ্ন -ফরিদ তালুকদার
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ October 14, 2019 |
দেখা হয়েছে : 1689
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.