রূপান্তর
প্রাণের পড়শী রে কাছে ডাকে মেঘ
আকাশ কথা কয়
দিনের স্মৃতিকে নিয়ে ভাবুক নেড়ী কুকুর
টংয়ের ঠিকানায়
কার বিরহ এখনও আঁধার পেরিয়ে আসে
কোন সে বিষাদী মায়া এখন, অরণ্য বুকে ঝরে?
বেদনার ভৈরবী সুর, হৃদয়ে ডুকরে ওঠে।
পরাণ খোলা নদী, বৃষ্টি কাছে ডাকে
শ্রাবণ ধুয়ে দেয় সবুজ ঘরবাড়ি
বৈরাগী এই মন আঁধারে কান পাতে
রাতের কিনারায় তানপুরাটা কাঁদে!
দেবীরা নশ্বর ঈর্ষীতা মানুষ
বুঝিনি কোনদিন বেহুলার ব্যাথা
প্রেমান্ধ নই বোধের ঠিকানায়
এ হৃদয়ে প্রেত নিয়ত হানা দেয়
জীবন কি যে চায়? জলের ছবি আঁকে
অচেনা প্রান্তরে সুখের মমি গড়ে।
আকাশ দূরে নয়
এ জল কোলাহল হঠাৎ থেমে যায়
নিঝুম কোন রাতে, একটি তারা একা
মৃত্যুকে ডেকে নেয়!
চৌরাস্তা
চৌরাস্তার মোড়ে একা
স্বপ্নেরা ঝিমোয়
রাতের শেষ প্রহর
অস্তিত্বের দশ দিগন্ত ঘিরে বিজ্ঞাপনের মেলা
প্রসাধনী মোড়া ত্বকের মতন মসৃণ নিয়ন আলোয়
এবড়ো খেবড়ো কঠিন ফুটপাতে
মায়ের বুক জড়িয়ে ক্ষীণ ক্ষুদ্র শিশু
কতটুকুন ভালো থাকলে জীবনকে বলা যায় আশীর্বাদ?
কিছু কিছু কষ্টের কাছে নতজানু হয়ে পরে থাকি এখনও।
ঈশ্বর মাহাত্ম্যের বিজ্ঞাপন
শুনে এসেছি আজন্ম
প্রথাগত বিশ্বাস গুলো এখন
শীতের পাতার মতন ধূসর বাদামী
বোধের অভিধানে কখন
অগোচরে বদলে গেছে
ভালো না ভালোর সংগা।
দুপাশের নিমগ্নতাকে কাঁপিয়ে দু’একটি দৈত্য যান
ছুটে যায় হঠাৎ দুঃসাহসের মতো
যেতে পারি যে কোন দিকেই
যে কোন দিকেই বর্ণালী সভ্যতার ক্ষতগুলো
দৃষ্টিতে জাগাবে বিবমিষা
প্রকৃতি তার ক্লান্ত অভিভাষণ নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকবে পথের দুপাশে
বিন্যস্ত-অবিন্যস্ত শঠতার পসরা দেখবো
গিরি কান্তি নগরীর চূঁড়ায়
ঢের ভালো মানিয়ে নিবো
স্যাঁতস্যাঁতে খুপরির চার দেয়াল
মানিয়ে নিবো হিমবাহের মতো জমে ওঠা
শোকার্ত নীরবতা
তছনছে স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠবে নবীনার মুখ
ওর সাথে কোন একদিনের রাজসিক উৎসবেরা
তাকিয়ে থাকবে সময়ের অসহায় চোখে
ভালো থাকবো আমি।
দু’হাতের গলিতে মাথা গুঁজে বলবো
আমি ঝড়ের আকাশে বাজ পাখির মত উড়তে শিখেছিলাম
তোর যৌবনে লুটিয়ে পড়া মাতাল বসন্তের সাথে
দ্বৈরথ লড়তে শিখেছিলাম
কিন্তু আমি শক্তির পূজারী হতে পারিনি
আমি খুনের বদলে খুন করতে শিখিনি
তাই হেরে গেছি।
যদি মনে হয় আসিস কোনদিন
কিছু আছে স্বীকারোক্তি
অভিযোগ কিছু নেই
অসমাপ্ত একটি অক্ষরে রেখে যাবো
আমার সব না বলা কথা।।
ফরিদ তালুকদার । টরন্টো
নভেম্বর ১, ২০১৯
কবিতা - ফরিদ তালুকদার
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ November 2, 2019 |
দেখা হয়েছে : 1177
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.