অটোয়া, বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬

হে নারী - প্রশান্ত সান্যাল

By Ashram | প্রকাশের তারিখ September 27, 2020 | দেখা হয়েছে : 1164
হে নারী - প্রশান্ত সান্যাল

তুঙ্গে তুঙ্গে বাজিছে আজ বেহায়ার সুর,
হাট-বাদাড় হতে ভেসে আসে
চিৎকার। চিৎকার বহুদূর।
যে তুমি হে, ধর্ষিতা নারী
তোমার চিৎকারে রক্ত গরম ক্ষণিকের,
আবার শীতল হয়ে যায় পরক্ষনেই।
তোমার চরিত্রের বিষাদ গন্ধ,
সুসভ্য সমাজের সুবোধ লোক
বেশ কিছুদিন উড়িয়েই অবাক।
তোমার হুংকার ছুতে পারে না
সুসভ্যের দেওয়াল।
রক্ত, মাংসের স্বাদের চেয়েও
তৃপ্ততা তোমার চিৎকার
নেকড়ের হিংস্র চোয়াল
ধর্ষণের গন্ধ বাতাসে বারংবার।

তোমার অসহ্যনীয় সীমাহীন
পশুত্বের শিকার চিৎকার,
সুসভ্য সমাজে সভ্যনীয়
মনোরঞ্জন দৃশ্য মাত্র।
কিছু দিবস তোমার চরিত্র উড়িয়ে,
নতুন বার্তার মূর্ছায় র'য় জড়িয়ে।
কেবল মাত্র মোমবাতি আর
মানব বন্ধের মতো উচ্চ উচ্চ
বুদ্ধিজীবির মত লুটোয় চায়ের টঙ,
সোস্যাল মিডিয়াতে তোমার
নামের ন্যায় বিচারের চলে
কিছু দিবস ঢঙের পর ঢঙ।

গরম রক্তের মতোই জনগন
ভালোবাসে গরম চিৎকার,
ভালোবাসে ধর্ষিতার হাহাকার
ঝুলে থাকে শত বর্ষ তোমার!
তোমার চিৎকারের বিচার।
কি ভীষণ বর্ষণ এ কলির
আমি বা আমরা কেউওই
এখনো হাতো মুঠোয় নিতে পারিনি,
সততা ও সমতার আলোকিত ব্রহ্মান্ড!
ধর্ষিতা এখনো সমাজের নির্লজ্জ
আর ধর্ষক। ধর্ষক যেন সমাজের
বীরের উপাধিতে সাজানো মেডেল।

সমাজের ভয়ে সম্মানের ভয়ে
শত চিৎকার যায় সদ্দম হারিয়ে,
লোকবলের ওমন লাফালাফি,
ফাঁস পড়িয়ে দেয় গলায়
কাঁটাতারে জড়িয়ে যায় সমস্ত শরীর।
হে নারী ছিন্ন তোমার স্বাধীনতা
বিকৃত সমাজ, সমাজের ব্যধি।
এ সমাজ উলঙ্গেও দিতে
পারে না তোমার নিরাপত্তা।
আর বিচার। হা-হাসি পায়
নাই বা বলি, হে নারী।

প্রশান্ত সান্যাল
নওগাঁ সদর, রাজশাহী
বাংলাদেশ

Share:

আরও পড়তে পারেন

Comments

John Doe: Great article!

Jane Smith: Loved this story.