শুধুমাত্র দেহ দোকান খুলে বসলেই কি তাকে “বারবনিতা” বলে?
প্রশ্নটা প্রায়শই আমাকে ভাবায়
সেই অনাদিকাল থেকে-
একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষের ললাটে তকমা হয়ে বসে আছি
তোমাদের সভ্যতা যাদেরকে ঘৃণিত করেছে
অন্ততঃ দিনের আলোয়!?
তাই আমিও এখন একটি ঘৃণিত শব্দ-- “বারবনিতা”!
উৎপত্তির ইতিহাসটা আমি কখনো জানতে পারিনি
তবে আমি বেশ জানি,
সেই শুরু থেকেই আমি ভুল মানুষের ললাটে ঘুরি
অচ্ছ্যুতের আলয়ে নয়, আমার বিশ্বাস-
উচ্চ মহলের মানুষ গুলোতেই মেলে আমার প্রকৃত পরিচয়
সময় বদলেছে, বিবর্তন দিয়েছে রং অনেক কিছুতেই
কিন্তু--
বদলায়নি কখনো আমার স্বীকৃতি রেখা
আমি দেহজীবির কষ্ট বুঝি, আমি তার আত্ম যন্ত্রণা পড়ি রাত-দিন
আমি বুঝি তার অসহায়ত্ব, তার গোঙানি আমি শুনি,
আর দেখি মিথ্যে এবং বরখেলাপের মুখোশী বারাঙ্গনারা
কিভাবে খুবলে খায় তার দেহের সবটুকু প্রলোভন!
টিকে থাকার সংগ্রামে যে তার সর্বস্ব হারায় সভ্যতার অন্ধকার হাটে
সে কেন হবে “বারবনিতা”?
তার শরীরের পড়ে যে ভ্রমরেরা গুনগুনায়
আমার দুর্গন্ধ যে তাদের চরিত্রেই খুব বেশী শোভা পায়!
আজন্মই তাই আমার বাস রয়ে গেছে ভুল ঠিকানায়!
আবারও বলছি আমি “বারবনিতা”
যদি দেখতে চাও আমার সত্যিকার রূপ, তাহলে
চৌরাস্তার ঘুপচি গলি নয়, নিশুতি রাতের বাস স্ট্যান্ডে-
যাত্রী ছাউনির নীচে নয়
ব্রোথেল কিংবা বানী সান্তা নয়…
ওখানে তো চলে জীবনের একপেশে সরল লেনদেন
তোমরা সভ্য(!) সন্তানেরা-
নিষ্ঠুর লুটে নাও দেহ দোকানীর সবটা আয়োজন
আমাকে দেখতে হলে চলে আসো-
কলরেডি মাইকে সজ্জিত মঞ্চের সারিতে
অতি কর্পোরেট এর পেন্ট হাউস, আমলার দফতর,
প্রার্থনালয়ের চূঁড়ায়, সংসদ ভবনের চেয়ার,
এমন কি-
দেশের সর্বোচ্চো ক্ষমতায় আসীন মসনদটির দিকে
ভালো করে তাকাও, দেখো একেকজন সার্থক বারবনিতার রূপ
পুরুষ কিংবা নারী, এরাই সত্যিকারের পসারিণী!
লোভের নিরঙ্কুশ অংকে, স্বার্থের যেকোনো হাটে
নিমেষে এরা বেচে দেয় মাকে,
এদের হাতের তালুতে জলের মতো খেলা করে রক্ত
ধমনীতে এদের নিরন্তর বয় প্রতারণার পঞ্চ সুর
দিনের আলোয় যাদেরকে এরা বলে দালাল
রাতের অন্ধকারে তাদেরই সাথে এরা করে নেয় বিছানার ভাগাভাগি!
যা সহসাই বুমেরাং এর মতো ফিরে আসে হিংস্র নখরে
তবে তাতেও তাদের কিছু যায় আসে না
কারণ এরাই যে আসল দালাল, আসল বারবনিতা।
তোমাদের পৃথিবীতে এখনো সত্যিকারের মানবতার কোন আদালত নেই
ছিলো ও না কোনদিন
থাকলে হয়তো আমি মামলা দিতাম
হাজার বছরের পুরনো অভিযোগ, ফিরে আসে নিত্য নব নব রূপে
সভ্যতার সূর্য যে বরাবরই ভুল মাস্তুলে উঠে--!
ফরিদ তালুকদার। টরন্টো, কানাডা
একটি শব্দের সন্তাপ – ফরিদ তালুকদার
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ December 10, 2020 |
দেখা হয়েছে : 796
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.