গহীন নিশীথ রাতে দেখেছিনু যারে অনন্ত মধুর স্বপনে
এক শ্যামলা শ্যামল গায়ের মেঠো পথের বাঁকে।
শরতের শিউলি ফুলের মৌ মৌ গন্ধ্যের টানে
ছুটে আসা ভ্রমরের মতো গুনগুন গুঞ্জরণে
উষার শিশির ভেজা ঘাসের প’রে এক অভাবনীয় মানব মূর্তির দরশণে
বোবা অনুভূতির হৃদয় কম্পনে, দু’টি বিস্মিত নয়নের সম্মোহনের এক সন্ধিক্ষণে,
তুমিই কি সেই!
মুখে নাহি স্বর, দাঁড়ায়ে নিথর, ভাবলেশহীন আঁখি তন্ময় মোর
হেরি তব অবিরত অবিরল বিচিত্র অবয়ব, রামধনুর মতো।
আমি শিহরিত হই ক্ষণে ক্ষণে, নিমজ্জিত স্নিগ্ধ বাতাসের মিষ্টি চুম্বনে,
ঠিক যেন রক্ত-মাংসের মানবীয় চঞ্চল ওষ্ঠের উষ্ণ পরশের মতো।
সুকৌশলে সুধালে মোরে, ‘ওহে মায়াবিনী, কালো নয়ন হরিণী,
শুনি অবিরাম তব কাঁকনের ঠুনঠুন ধ্বনি; কে গো তুমি অন্তর্যামী?
করিলে বশীভূত আমায়!’
তুমিই কি সেই?
লয়ে একতারা গেরুয়াবসনে, নিঝুম সন্ধ্যায় উজ্জ্বল চন্দ্রকিরণে,
শোনাইলে বাউল গানের সুরে বিরামহীন কাব্য কথা, নীতিকথা-
এক মাধুর্য্যময় তিলোত্তমার প্রেমগাথা, বসিয়া পদ্মাসনে।
আমি ভাবনার জ্বাল বুনি বিমুগ্ধ শ্রবণে, আনমনে পরিতৃপ্ত মনে।
হৃদয় গগনে মোর জাগিল সুপ্ত বাসনা, মধুর শিহরণে।
আমি করি প্রণতি নত শীরে, ভক্তি ভরে, বৈরাগীরে
মজিয়া প্রেমের অমৃত সুধারসে।
তুমিই কি সেই?
ঘনিয়া আবেগে অনুরাগে, চন্দ্রালোকের গাঢ় নিঝুম নিস্তব্ধতায় অপলকে চেয়ে
করিলে তব তৃষিত আঁখীর পিপাসা নিবারণ।
গড়িলে আপন চিত্তভবন শান্তি সদন।
লয়ে পূজারিনীর পুস্পার্ঘের অর্পিত নিবেদন-
প্রেম মন্দিরে।
হইয়া আবিষ্ঠ তুষ্ট হৃদয়ে দিলে অভিবাদন মধুর সম্ভাষণে,
‘হে ভুবন মোহিনী, হৃদয়হরিনী, বেসেছি ভালো শুধু তোমায়
একান্ত আপন করে, বসায়ে হৃদিপদ্মের মাঝারে,
তুমিই কি সেই?
স্বপ্ন ভাঙ্গার শেষে, উদীয়মান স্নিগ্ধ কোমল তরুণ সূর্য্যরে মতো
সশরীরে সম্মুখে এসে, চমকিত মোরে ঢলিলে অযথা যাতনায় সংকট সংশয়ে
অজ্ঞাত অনুসারে ধুমকেতুর মতো।
আমি অশান্ত, উদ্বেলিত, বাক্যাহত।
খুঁজে মরি পরশপাথর।
তুমিই কি সেই?
যুথিকা বড়ুয়া । টরন্টো
jbaruajcanada@gmail.com
তুমিই কি সেই -যুথিকা বড়ুয়া
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ November 8, 2019 |
দেখা হয়েছে : 1783
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.