অপরাজিতের সিন্থেসিস
কী অভিমানে চিরতরে ছেড়ে গেলে অপরাজিত?
এই তো গেল আশ্বিনের শেষ রাতে কত কথা হলো
মনের বাগানে,ঝরা পাতা,বাসি ফুল,প্রেম,প্রতারণা,
ঘৃণা,অপ্রেম;থিসিস অথবা এ্যান্টিথিসিস বিষয়ক।
সে কথা শুনে ফেলেছিল পোয়াতি চাঁদ,দূরন্ত ষাঁড়,
ঋতুমতী মেঘ,আর মরমী করাত,সেই থেকে চাঁদের
অরুচি দাস ক্যাপিটালে,বিপ্লববাদে দীক্ষিত সে মেঘ
সর্বহারার যৌবনে ভেসেছিল অনাদি মৈথুন আশে।
এত তাড়াতাড়ি কেন চলে যাওয়া তা বাতাস জানেনি
আগে,এত তাড়াতাড়ি কেন স্বপ্ন-সমাধি জানেনি
ফুলপরী ও নীল,শান্তি বাগানে দেদার ফূর্তিতে মাতে
গাঙ ফড়িংয়েরা,সিন্থেসিস ভাসে অপরাজিত জলে।
সম্পর্কের সাতকাহন
সম্পর্কের ভূতগুলোকে একে একে তাড়িয়ে দিচ্ছি
তবুও কয়েকটি শিরায় উপশিরায় ভীষণ জ্বালাচ্ছে,
একদিন এই সব সম্পর্ক জীবিত ছিল,এখন সব মৃত,
যে দিকে তাকাই শুধু সারি সারি সম্পর্কের মৃতদেহ।
সম্পর্কের রসায়ন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে এখন...
গন্ধগুলোও পাল্টে যাচ্ছে,যতক্ষণ তুমি দিতে পারবে
গন্ধ অটুট,অথছ একদিন এই গন্ধ ছিল আতরের,এই
গন্ধ ছিল গোলাপের,এই গন্ধ ছিল নন্দিত,রোমহর্ষক।
বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ,অথছ ভৌতিক বাতাসে
আর ঠাকুরের গন্ধ নেই,ফুলের গন্ধ নেই,ধূপের গন্ধ
নেই,ভালোবাসার প্রদীপ জ্বলেই নিভে যায়,সব ধূপ
পুড়ে ছাই,ধোঁয়ায় ঘরময় অন্ধকার,ভূতেদের রমরমা।
এখন সম্পর্কে জল নেই,বাতাস নেই,গন্ধ নেই,এখন
সম্পর্কে শুধু ঈর্ষা,হিংসা,সন্দেহ ও অবিশ্বাসের গন্ধ,
দরজা বন্ধ,জানালা বন্ধ,বন্ধ ঘরে ছায়া শরীর শুধুই
হাইটেক সম্পর্কের খোঁজে তৎপর,পূতিগন্ধময় প্রেম।
নেই সখ্যতা,এখন শুধু হিসেব কষা,শুধু ছক কষা,শুধু
জল মাপা,বিছানায় পড়ে থাকে হিমবন্ত শরীর,সমস্ত
রিপুগুলো অবদমিত,পান থেকে চুন খসলেই বিপর্যয়,
সম্পর্কের রূপ-রস-গন্ধে বেঁচে থাকেসৃষ্টি ও সৃজন।
স্বপ্নদর্শী স্মৃতি ও কুমারী শীতকাল
আজকাল স্মৃতিগুলি বাতায়নে ফিরে আসে,
ফিরে এসে অদ্ভূত দাপটের সাথে মস্তিষ্কের
দখল নেয়,জমি তৈরি করে ফসল ফলায়...
তারপর বেমালুম বেপাত্তা হয়ে যায় নির্ভীক।
এখনো শীতকাল আসতে অনেক দেরি
তবুও শরীরে তরতরিয়ে বাড়ে আলস্য...
আস্তে আস্তে হিমবন্ত অন্ধকারে সন্তর্পণে
জাল বিস্তার করে ঘিরে ফেলে উদ্দীপনা।
শীতকাল এসে গেলে কুয়াশার চাদরে ঢেকে
যায় দিগন্ত,ভোরের সূর্যের সাথে খেলা করে
শিশিরের মায়া,যাদুকর সোনালী রোদের
ঢেউ এসে ধুয়ে দেয় জড়তার শিরা-উপশিরা।
কুমারী শীতকাল আসে যৌবনগর্বে,স্মৃতিসিন্ধু
বেয়ে ফিরে আসে অতীতের জলবাতাস,মনের
গোপন বনে লীলাখেলে অপুষ্ট ভালোবাসা,প্রেম-
অপেক্ষার চাওয়া পাওয়া নন্দন ফুল হয়ে ফোটে।
ড. মহীতোষ গায়েন,
অধ্যাপক, সিটি কলেজ, সম্পাদক-সাজি পত্রিকা, (কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা শাখা)সম্পাদক-কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী পরিষদ,সম্পাদক, পশ্চিমবঙ্গ,দৈনিক সুপ্রভাত উত্তরবঙ্গ।
মহীতোষ গায়েন এর তিনটি কবিতা
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ November 14, 2021 |
দেখা হয়েছে : 1090
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.