ডুবে থাকো ২০২০
কালো রঙের রুমালে ঢেকে থাকুক তোমার ধ্বংসাসী চোখ
এখানে এই কোমল মাটির পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতো কৃষ্ণচূড়া,
আলভেজা ভোরের কুয়াশা পথে আমরা খালি পায়ে হেঁটে যেতাম
দিগন্ত নিসঃরিত নদীর কুহক ডাক শুনতে।
জোছনার আলোতে ডুবে আছে তোমার মৃত চোখ
স্বপ্ন সায়র থেকে ছেড়ে যাওয়া রঙধনু জাহাজটি
কুড়িয়ে আনতে গেছে পথে পথে পরে থাকা মানুষের মুখ,
শর্ষে ইলিশের ঝাঝালো গন্ধমাখা মুখে আমিও
সরিয়েছে মাছেদের লাশ, পর্যায়িতকরণ ও প্রমিতকরণের
চূড়ান্ত পাঠ চুকিয়ে এর ব্যবহারিক কর্মে নিজেকে সিদ্ধহস্ত করছি প্রতিনিয়ত।
একটি গরুর গাড়িতে পাটিমোড়া করে রাখা আছে
লালমনের নিথর দেহ, সেই ১৯৪৫ এ এই এঁটেল মাটির গাঁয়ে
পড়েছিল তার আলতা রঙা পায়ের ছাপ,
এরপর প্রতিটি হেমন্তে তার ছড়াগানের প্রলাপে প্রলাপে
বিছিয়েছে কত ধানের কাঁথা, ছড়িয়েছে কত বসন্ত শিউলি
আজ তার অন্তিমযাত্রায় কেউ নেই পাশে,
গোরুর চাকার ক্যাচ ক্যাচ শব্দে নুয়ে পড়ছে রোদ
অচেনা ফিঙেটা বসে আছে পাটিমোড়া লালমনের গায়ে।
হয়তো বলছে আমায় চিনেছিস লালমন
আমি তোর মা, আমি পাখি হয়েছি তুইও পাখি হতে চলেছিস।
২০২০ এই কবিতার শহর থেকে পালিয়ে গেছে কাক ও কোকিল
নিরাপদ দূরত্বের স্লোগানে স্লোগানে মুখোরিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপিত হচ্ছে শিল্প ও শিল্পি।
গুণীদের মলিন মুখে দেখি বিদায়ের হাসি
বুকের গহিনে ডাকছে অবিরত অচীন কুহক।
হয়তো তোমাদের এই মিছিলে আমি ও আমরা
সামিল হবো, নিরাপদ হবো এই ধূসরিত পৃথিবী থেকে
মুক্ত হবো, মুক্ত হতে হতে গ্রহান্তরিত হবো।
২০২০ আমাদের বিশ্বহৃদয়ে ভাঙনের ক্ষরণমুগ্ধ কাল
এই বিস্মৃতি, এই ক্ষত আমৃত্যু বয়ে যেতে হবে
বুকের ভেতর যে শূন্যতার গর্জন উঠিয়েছো তুমি
তাকে কি করে ভুলি, কী করে ভুলি এই বিমোর্ষিত দহন।
তুমি অস্তমিত হও আর উদিত হইয়োনা ২০২০।
স্বপঞ্জয় চৌধুরী,
প্রভাষক,হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সাউথ পয়েন্ট কলেজ,
বারিধারা, ঢাকা।
ডুবে থাকো ২০২০ - স্বপঞ্জয় চৌধুরী
By Ashram |
প্রকাশের তারিখ January 7, 2021 |
দেখা হয়েছে : 1149
আরও পড়তে পারেন
Comments
John Doe: Great article!
Jane Smith: Loved this story.